| প্রথম পাতা |
|
নিঝুম দুপুর। ঝাঁ ঝাঁ করছে রোদ্দুর। দোতলার জানালার গরাদের ফাঁকে মুখ ঠেকিয়ে বাগানের দিকে তাকিয়ে বসে আছি। বাগানের আম-কাঁঠালের ছায়ায় খেলে বেড়াচ্ছে কাঠবেড়ালী। কুব-কুব করে ডেকে চলেছে কুব পাখি । ফলসা গাছের সবুজ- বেগুনি ফলের ফাঁকে ফাঁকে কিচমিচ করছে দুটো শালিখ। জামরুল গাছ ভরে গেছে সাদা সাদা জামরুলে। আম গাছ ভরে আছে কাঁচা পাকা আমে। চোখটা ঘুমে জড়িয়ে আসছে ...ভাবছি একটু পরেই মিষ্টি আম আর ঠাণ্ডা জামরুল খেতে দেবেন মা...এমন সময়ে ধপাস ধপাস আওয়াজ শুনে চোখ ফাঁক করে দেখিকি দুটো ছেলে পাঁচিল ডিঙিয়ে বাগানে ঢুকেছে আর সোজা জামরুল গাছে উঠে পড়েছে। উঠেই ওরা টপাটপ জামরুল তুলে ফেলছে!দেখেই তো আমি দৌড়ে গিয়ে ঠাম্মাকে ডেকে এনে হইচই কান্ড বাঁধিয়ে ফেললাম। কি দুঃসাহস ভাব একবার - আমাদের গাছ থেকে কিনা কাউকে না বলে জামরুল পেড়ে নিয়ে যাবে!- ভাগ্যিস আমি ঘুমিয়ে পড়িনি! তোমার সঙ্গে এরকম হয়েছে নাকি? আমার ছোটবেলায় কিন্তু এরকম প্রায় এক রুটিন ছিল গরমের ছুটিতে। আমাদের বাগানের গাছগুলি ভরে উঠত নানারকমের ফলে। আর পাড়ার ছেলেরা দলবেঁধে এসে পেড়ে নিয়ে যেত কত ফল। মাঝেমধ্যে অবশ্য আমাদেরকেও কিছু ভাগ দিয়ে যেত। গরমকাল বা গ্রীষ্মকাল বললেই কি কি মনে পড়ে বলত? প্রথমেই মনে পড়ে স্কুলের লম্বা-আ-আ-আ ছুটি, তাই না? আর গ্রীষ্মের ছুটি বা সামার ভ্যাকেশন মানেই হল ঘুরতে যাওয়া পাহাড়ে বা সমুদ্রে। অথবা মামার বাড়ি বা পিসির বাড়ি...তাই না?বাইরে বেড়াতে গেলে তো কথাই নেই, খালি ঘুরে বেড়ানো আর ভালমন্দ খাওয়া -যত খুশি খাওয়া আইসক্রিম আর কোল্ড-ড্রিঙ্ক, তোমার সাথে সাথে বাবা-মাও কেমন যেন ছোট হয়ে যান ওই কটা দিন... মা-ও আর বকাবকি করেন না বেশি। ![]()
তাহলে আর কি? মা কি আমের আচার তৈরি করে ফেলেছেন? তাহলে খানিকটা নিয়ে এস। আচারটা চেখে দেখতে দেখতে পড়ে ফেল নতুন 'ইচ্ছামতী'। আমি বরং আমার সেই হারিয়ে যাওয়া ছোট্টবেলার আম-কাঁঠাল-জামরুল গাছভরা বাগানটার কথা ভাবি... |